ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনায় আইন পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনার আহ্বান



নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনায় আইন পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনার আহ্বান

নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল নারায়ণগঞ্জ। বুধবার (২০ মে) বিকালে ফতুল্লার হিমাচল রেস্তোরাঁয় সংগঠনটির জেলা শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘মুর্দাবাদ-জিন্দাবাদ’, ‘অমুক দল আমি, অমুক দল তুমি’ এ ধরনের বিভাজন চলতে থাকলে আইনজীবীরা সস্তা রাজনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হতে বাধ্য হবেন।

তিনি বলেন, একসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে দলভিত্তিক প্যানেল ছিল না। তখন যোগ্য আইনজীবীরাই সভাপতি-সেক্রেটারি পদে প্রার্থী হতেন। কেউ নির্বাচন করতেন, আবার কখনো নির্বাচন ছাড়াও নেতৃত্ব নির্ধারিত হতো। কিন্তু এখন দলভিত্তিক বিভাজনের কারণে সুপ্রিম কোর্ট বারের গুরুত্ব কমে গেছে।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে খন্দকার মাহবুব হোসেন, রফিক-উল হক ও আমির-উল ইসলামদের বক্তব্যে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হতো। কারণ, তখন সুপ্রিম কোর্ট বারকে স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সেই মর্যাদা নষ্ট হয়েছে।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সরকার কোনো অসাংবিধানিক কাজ করলে সুপ্রিম কোর্ট বারের দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কথা। কিন্তু নিজেদের মান ও অবস্থান আইনজীবীরাই দুর্বল করে ফেলেছেন। তিনি নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আইন পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং সত্য কথা নিজের বিরুদ্ধে গেলেও বলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দল যদি অসাংবিধানিক কাজ করে, তাহলে আইনজীবীদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে ‘ওয়ার্ক টেকেন বাই পার্টিকুলার পার্টি ইজ আনকনস্টিটিউশনাল।’

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাবেক এক অ্যাটর্নি জেনারেলের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি কোনো সরকার বা ব্যক্তির নয়, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। একইভাবে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী–এর আমলের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন অ্যাটর্নি জেনারেল নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

জেলা ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি মো. মাইনউদ্দিন মিয়র সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মমিনুল হক সরকার, সেক্রেটারি মনোয়ার হোসাইন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ট্রেজারার ও সিনিয়র আইনজীবী এ হাফিজ মোল্লা, আইনজীবী থানার সভাপতি এডভোকেট  জাহাঙ্গীর দেওয়ান, সেক্রেটারি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনায় আইন পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল নারায়ণগঞ্জ। বুধবার (২০ মে) বিকালে ফতুল্লার হিমাচল রেস্তোরাঁয় সংগঠনটির জেলা শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘মুর্দাবাদ-জিন্দাবাদ’, ‘অমুক দল আমি, অমুক দল তুমি’ এ ধরনের বিভাজন চলতে থাকলে আইনজীবীরা সস্তা রাজনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হতে বাধ্য হবেন।

তিনি বলেন, একসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে দলভিত্তিক প্যানেল ছিল না। তখন যোগ্য আইনজীবীরাই সভাপতি-সেক্রেটারি পদে প্রার্থী হতেন। কেউ নির্বাচন করতেন, আবার কখনো নির্বাচন ছাড়াও নেতৃত্ব নির্ধারিত হতো। কিন্তু এখন দলভিত্তিক বিভাজনের কারণে সুপ্রিম কোর্ট বারের গুরুত্ব কমে গেছে।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে খন্দকার মাহবুব হোসেন, রফিক-উল হক ও আমির-উল ইসলামদের বক্তব্যে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হতো। কারণ, তখন সুপ্রিম কোর্ট বারকে স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সেই মর্যাদা নষ্ট হয়েছে।


মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সরকার কোনো অসাংবিধানিক কাজ করলে সুপ্রিম কোর্ট বারের দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কথা। কিন্তু নিজেদের মান ও অবস্থান আইনজীবীরাই দুর্বল করে ফেলেছেন। তিনি নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আইন পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং সত্য কথা নিজের বিরুদ্ধে গেলেও বলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দল যদি অসাংবিধানিক কাজ করে, তাহলে আইনজীবীদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে ‘ওয়ার্ক টেকেন বাই পার্টিকুলার পার্টি ইজ আনকনস্টিটিউশনাল।’

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাবেক এক অ্যাটর্নি জেনারেলের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি কোনো সরকার বা ব্যক্তির নয়, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। একইভাবে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী–এর আমলের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন অ্যাটর্নি জেনারেল নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

জেলা ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি মো. মাইনউদ্দিন মিয়র সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মমিনুল হক সরকার, সেক্রেটারি মনোয়ার হোসাইন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ট্রেজারার ও সিনিয়র আইনজীবী এ হাফিজ মোল্লা, আইনজীবী থানার সভাপতি এডভোকেট  জাহাঙ্গীর দেওয়ান, সেক্রেটারি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত