কলাপাড়ায় ঘরে সিঁধ কেটে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: মূল হোতা সহ গ্রেপ্তার ৩
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে এক কলেজ ছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মূল আসামী মোঃ রাব্বি খানসহ (৩২) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) পৃথক অভিযানে কলাপাড়া ও ঢাকার বনানী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কলাপাড়া উপজেলার উত্তর পূর্ব চালিতাবুনিয়া এলাকার মোঃ রাব্বি খান (৩২), মোঃ রুবেল মৃধা (৪০) ও মোঃ ইমন হাওলাদার (৩৫)।
ঘটনার বিবরণ:
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চম্পাপুর ইউনিয়নের উত্তর পূর্ব চালিতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমের মা ও ভাই নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সুযোগে আসামীরা টিনের ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আসামীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় লাইটের আলোতে ভিকটিম তার প্রতিবেশী রাব্বি খানকে চিনতে পারে। রাব্বি ইতিপূর্বেও ভিকটিমকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
পুলিশি অভিযান:
ঘটনার পর কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পটুয়াখালী জেলা পুলিশের একাধিক টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করে। শুক্রবার সকালে কলাপাড়া থেকে রুবেল ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে মূল আসামী রাব্বি অবস্থান পরিবর্তন করে ঢাকায় পালিয়ে গেলেও পুলিশ ধাওয়া করে বনানী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
জব্দকৃত আলামত:
অভিযানকালে পুলিশ অপরাধের কাজে ব্যবহৃত একটি কাঁচি, লোহার বটি, কাঠের লাঠি, এলইডি বাল্ব এবং একটি স্মার্টফোন জব্দ করেছে। এছাড়া ভিকটিমের পরিহিত পোশাক ও বিছানার চাদর আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানা পুলিশ জানায়, মূল আসামী রাব্বি খান আদালতে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের সফল এই অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন