ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক টিকে থাকতে পারে না - ডা. শফিকুর রহমান



জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক টিকে থাকতে পারে না - ডা. শফিকুর রহমান

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ ২০ জুন শনিবার দুপুর ২টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।

এছাড়া সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জনাব মোবারক হোসাইন, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আযম মো. আবু বকর এমপি, যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল এমপি, মেহেরপুর জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খান এমপি, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির খুলনা মহানগরী সভাপতি অধ্যক্ষ এসএএম সাইফুদ্দোহা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরী সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু বক্কর সিদ্দিক মোড়ল। এ সময় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্যগণ হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশের সর্বস্তরের মানুষ—যুবক, শিশু, নারী ও প্রবীণ—একসাথে দাঁড়িয়েছেন। এই জনজাগরণকে আর থামানো যাবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে বলছি, আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণকে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

আওয়ামী লীগের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনকে সরকার দমন করার চেষ্টা করেছিল, নির্বিচারে মানুষ খুন ও পঙ্গু করা হয়েছিল। অবশেষে জনস্রোতের মুখে তৎকালীন বেহায়া ও নির্লজ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। তিনি মানুষ খুন, পঙ্গু করা, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাংক-বিমা-শেয়ারবাজার লুণ্ঠন এবং অর্থ পাচার করেছেন, এবং শেষে তার 'সেবাদাসী' হিসেবে কাজ করা প্রভুদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।

খুলনাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খুলনাবাসী, আমরা আপনাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও কৌশলের মাধ্যমে ভোট কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না। সংসদে যতটুকু শক্তি আছে, তা নিয়েই সিংহের মতো লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, বলেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু কেউ যেন মনে না করেন যে আমরা অন্যায়কে মেনে নিয়েছি। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না হোক, সে কারণেই আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। কিন্তু অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।

জামায়াত নেতৃবৃন্দের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, দেশের প্রয়োজনে হাসিমুখে কষ্ট ও সংগ্রামকে বরণ করে নিতে হয়। বাংলার ইতিহাসও সেই ত্যাগ ও সাহসিকতার শিক্ষা দেয়। জনগণ প্রয়োজনে সেই আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছে নতি স্বীকার করা হয়, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাই না। একইভাবে, আমাদের দেশেও যেন কোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ না হয়, সেটাও আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক প্রতিবেশীর সম্পর্ক চাই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ এলে, জনগণ তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে দেশকে একটি নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। এটি হবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাবান, শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। আমি বাংলাদেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—দেশের কল্যাণে প্রস্তুত হোন। শুধু তরুণরাই নয়, জাতির প্রয়োজনে প্রবীণরাও নিজেদের যুবকের মতো প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যায়, শোষণ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে লড়াই করতে হবে। সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট চেয়েছিলাম বৈষম্যমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক নীতি-নৈতিকতাভিত্তিক বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, প্রকৃত ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা কখনও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি অবিচার, নির্যাতন বা অসম্মানের পক্ষে নই।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেশের নেতৃত্বে আসবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে জনগণের সামনে এখনও অনেক জাতীয় সমস্যা রয়ে গেছে। আজও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রশ্নে জনগণের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের ফল নয়। এটি বহু মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কার কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার জন্য। আমরা চাই— ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার জন্ম নিতে না পারে; রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়; বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে। আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকার যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।

ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও বিতর্ক ছিল। আমাদের বিশ্বাস, জনগণের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও অনেক জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাননি। সুতরাং আমরা সেইসব অনিয়ম ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ার সমালোচনা করি এবং জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানাই। আমরা বলতে চাই, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। তাই জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ কারও নেই।

তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, মুসলমান এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের শক্তি তার বহুত্ববাদী ঐতিহ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।

এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুই বছর পরও সেই আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই রয়েছে- রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমরা রাজপথে যেমন ছিলাম, ভবিষ্যতেও তেমনি থাকব।

সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে কিছু মৌলিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কারের মধ্যে ছিল— প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব হ্রাস; জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন; উচ্চকক্ষে পিআরসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর করা। গণভোটে জনগণের বিপুল সমর্থন এই সংস্কারগুলোর প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন। গণভোটে যেসব সংস্কার নিয়ে জনগণের সমর্থন ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনীহা ও বিলম্ব জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে এবং বাইরে-উভয় ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম। জনগণের প্রত্যাশা হলো—তাদের মতামত, অধিকার এবং উন্নয়নের দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অস্থিরতার বিভিন্ন ঘটনা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। বাগেরহাট থেকে সমাবেশে আসার পথে কিছু ভাইয়ের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই সরকার জনগণের সরকার নয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের দিকে ধাবিত হয়েছে। গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক টিকে থাকতে পারে না - ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ ২০ জুন শনিবার দুপুর ২টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।


এছাড়া সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জনাব মোবারক হোসাইন, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আযম মো. আবু বকর এমপি, যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল এমপি, মেহেরপুর জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খান এমপি, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির খুলনা মহানগরী সভাপতি অধ্যক্ষ এসএএম সাইফুদ্দোহা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরী সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু বক্কর সিদ্দিক মোড়ল। এ সময় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্যগণ হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশের সর্বস্তরের মানুষ—যুবক, শিশু, নারী ও প্রবীণ—একসাথে দাঁড়িয়েছেন। এই জনজাগরণকে আর থামানো যাবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে।


তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে বলছি, আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণকে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।


আওয়ামী লীগের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনকে সরকার দমন করার চেষ্টা করেছিল, নির্বিচারে মানুষ খুন ও পঙ্গু করা হয়েছিল। অবশেষে জনস্রোতের মুখে তৎকালীন বেহায়া ও নির্লজ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। তিনি মানুষ খুন, পঙ্গু করা, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাংক-বিমা-শেয়ারবাজার লুণ্ঠন এবং অর্থ পাচার করেছেন, এবং শেষে তার 'সেবাদাসী' হিসেবে কাজ করা প্রভুদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।


খুলনাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খুলনাবাসী, আমরা আপনাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও কৌশলের মাধ্যমে ভোট কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না। সংসদে যতটুকু শক্তি আছে, তা নিয়েই সিংহের মতো লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, বলেন তিনি।


১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু কেউ যেন মনে না করেন যে আমরা অন্যায়কে মেনে নিয়েছি। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না হোক, সে কারণেই আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। কিন্তু অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।


জামায়াত নেতৃবৃন্দের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, দেশের প্রয়োজনে হাসিমুখে কষ্ট ও সংগ্রামকে বরণ করে নিতে হয়। বাংলার ইতিহাসও সেই ত্যাগ ও সাহসিকতার শিক্ষা দেয়। জনগণ প্রয়োজনে সেই আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাবে।


বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছে নতি স্বীকার করা হয়, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।


তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাই না। একইভাবে, আমাদের দেশেও যেন কোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ না হয়, সেটাও আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক প্রতিবেশীর সম্পর্ক চাই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ এলে, জনগণ তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে দেশকে একটি নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। এটি হবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাবান, শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।


তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। আমি বাংলাদেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—দেশের কল্যাণে প্রস্তুত হোন। শুধু তরুণরাই নয়, জাতির প্রয়োজনে প্রবীণরাও নিজেদের যুবকের মতো প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যায়, শোষণ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে লড়াই করতে হবে। সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।


কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট চেয়েছিলাম বৈষম্যমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক নীতি-নৈতিকতাভিত্তিক বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, প্রকৃত ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা কখনও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি অবিচার, নির্যাতন বা অসম্মানের পক্ষে নই।


তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেশের নেতৃত্বে আসবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে জনগণের সামনে এখনও অনেক জাতীয় সমস্যা রয়ে গেছে। আজও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রশ্নে জনগণের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের ফল নয়। এটি বহু মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।


তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কার কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার জন্য। আমরা চাই— ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার জন্ম নিতে না পারে; রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়; বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।


মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।


তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে। আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকার যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।


ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও বিতর্ক ছিল। আমাদের বিশ্বাস, জনগণের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও অনেক জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাননি। সুতরাং আমরা সেইসব অনিয়ম ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ার সমালোচনা করি এবং জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানাই। আমরা বলতে চাই, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। তাই জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ কারও নেই।


তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, মুসলমান এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের শক্তি তার বহুত্ববাদী ঐতিহ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।


এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুই বছর পরও সেই আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই রয়েছে- রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমরা রাজপথে যেমন ছিলাম, ভবিষ্যতেও তেমনি থাকব।


সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে কিছু মৌলিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কারের মধ্যে ছিল— প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব হ্রাস; জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন; উচ্চকক্ষে পিআরসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর করা। গণভোটে জনগণের বিপুল সমর্থন এই সংস্কারগুলোর প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন। গণভোটে যেসব সংস্কার নিয়ে জনগণের সমর্থন ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনীহা ও বিলম্ব জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।


তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে এবং বাইরে-উভয় ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম। জনগণের প্রত্যাশা হলো—তাদের মতামত, অধিকার এবং উন্নয়নের দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অস্থিরতার বিভিন্ন ঘটনা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। বাগেরহাট থেকে সমাবেশে আসার পথে কিছু ভাইয়ের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই সরকার জনগণের সরকার নয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের দিকে ধাবিত হয়েছে। গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত