নারায়ণগঞ্জে হামলা-লুটপাটের অভিযোগে দোষীদের বিচার দাবি ছাত্রশক্তির
নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে হামলা, শিক্ষার্থীদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, নারায়ণগঞ্জ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মাহ্ফুজ খান।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সরকারি তোলারাম কলেজের পদ্মা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের স্মরণ দিবসও কলঙ্কিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাহ্ফুজ খানের দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পর বিকাল ৫টার দিকে তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ও সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কক্ষে কক্ষে তল্লাশি, ভাঙচুর এবং ব্যক্তিগত মালামাল লুটপাট করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, হামলায় ছাত্রশক্তির দুই সমর্থকসহ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে শরীফ আব্দুল্লাহ রাব্বি, দেওয়ান আমজাদ, রেদওয়ান, রিফাত ও ইমন হোসেনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তাদের স্টাম্প, রড, বেল্ট ও কাঠের চেয়ার দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় একটি আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১৫, একটি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব, একটি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, কয়েকটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ইয়ারপড, হাতঘড়ি, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নগদ ২০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার ও আইনের আওতায় আনা, লুট হওয়া মালামাল ফেরত দেওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া।
মাহ্ফুজ খান কলেজ প্রশাসনের ভূমিকায়ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শুধু হল বন্ধ বা তদন্ত কমিটি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অতীতের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা গেলে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতো না।
তিনি বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি সংঘাত নয়, সংলাপ, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য আচরণবিধি প্রণয়নে সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা আগ্রহী।
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে মাহ্ফুজ খান বলেন, “এই হামলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে হয়েছে। আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আগেও চেষ্টা করেছি, সামনেও করবো।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হল খালি করার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার আগে সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের সদস্য সচিব সারফারাজ সজিব, মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম, মহানগর আহ্বায়ক কমরেড আমিনুল ইসলাম, মহানগর সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক সিফাত দেওয়ানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
আপনার মতামত লিখুন