নারায়ণগঞ্জ মাসদাইরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাই এর এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে জিসান ও অনিক নামের ২ যুবককে বেধড়ক পেটানো হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জিসান মারা যায়। যুবককে পিটিয়ে হত্যার নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এলাকার মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জিসান ও অনিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।
নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে।
নিহতের মা শিল্পী বেগমের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোক তার ছেলেকে শনিবার মাগরিবের নামাজের আগে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর জিসান ও জিসানের বন্ধু অনেককে রাস্তার পাশে একটি ল্যাম্প পোস্টে শিকল দিয়ে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। নিহতের মা ও পরিবারের সদস্যরা হাত-পা ধরে অনুরোধ করলেও তারা তাকে মারধর বন্ধ করেনি। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আল ফালাহ নামের স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যাক্তি জিসানকে পেটায়।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা হাতে এলাকার বিভিন্ন দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদ বলেন, “জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। শনিবার নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। ”
এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, “যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবো না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তা মেরে ফেলে তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।”
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় জিসানের বন্ধু অনিককে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকাবাসী আটক করেছে। সেই ভিডিওতে অনেক ছিনতাইকৃত মোবাইল বিক্রি টাকার ভাগ জিসানকে দিয়েছে বলে জানাচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলার আব্দুল লতিফের ছেলে ইমন এলাকার আল ফালাহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেন, এমন একটি মোবাইল ফোন বিক্রির জন্য চাষাড়ায় আসে। এ সময় জিসান এই ফোন কেনার কথা বলে তাকে মাসদাইর এলাকায় নিয়ে আসে। মাসদাইর এলাকায় এনে তাকে রাত তিনটা পর্যন্ত আটকে রেখে প্রচন্ড মারধর করে এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় সে উদ্ধার হয়।
এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম, জরিনা আক্তার ও তাসলিমা খাতুন জানান, জিসানসহ এলাকার একটি মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপ এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। যার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন। জিসানের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে একটি মারামারির মামলা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা জিডি নেই।
তিনি বলেন, “কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন