হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান, নতুন জেটিতে স্বস্তি
নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় ভোগান্তির অবসান ঘটেছে। যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নতুন জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই জনহিতকর উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বিআইডব্লিউটিএ এবং ঘাটের ইজারাদার আবুল হোসেন রিপনের প্রশংসা করেছেন প্রতিদিন নদী পারাপারকারী হাজারো যাত্রী।
ভোগান্তির দীর্ঘ ইতিহাস ও সমাধান
হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপার হন। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ পুরোনো জেটির কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লেই তা তলিয়ে যেত। ফলে চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগ নিয়ে যাত্রীদের পারাপার হতে হতো, যা প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াত।
গত বছর ঘাটটির ইজারা গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ যাত্রীদের এই ভোগান্তি নিরসনে সচেষ্ট হন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ইজারাদার আবুল হোসেন রিপন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও বিআইডব্লিউটিএ-এর কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ নতুন জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
নির্মাণ কাজ ও বর্তমান অবস্থা
গত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে নতুন জেটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে হাজীগঞ্জ অংশের জেটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নবীগঞ্জ অংশের কাজও এখন শেষ পর্যায়ে। আধুনিক ও মানসম্মত এই জেটি নির্মাণের ফলে এখন পারাপার ব্যবস্থা অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজতর হয়েছে।
যাত্রীদের অনুভূতি
নতুন জেটি ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে নিয়মিত যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রী আব্দুর রহিম বলেন, “বছরের পর বছর আমরা এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করছি। বর্ষায় জেটি ডুবে যাওয়ায় হাঁটু সমান কাদা ও পানিতে পারাপার হতে হতো, যা ছিল বড় দুর্ভোগের। এখন নতুন জেটিতে অনেক আরামদায়ক ও নিরাপদভাবে পারাপার করা যাচ্ছে।”
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করায় স্থানীয় যাত্রীরা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এবং ইজারাদার আবুল হোসেন রিপনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন এই জেটির মাধ্যমে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে পারাপার ব্যবস্থা আরও আধুনিক হয়েছে এবং বছরের সব সময় যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন