ঢাকা   সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

খোলস বদলে বিএনপিতে শামসুজ্জোহা: অতীত অপরাধ ঢাকতে ‘হাইব্রিড’ রাজনীতির আশ্রয়!



খোলস বদলে বিএনপিতে শামসুজ্জোহা: অতীত অপরাধ ঢাকতে ‘হাইব্রিড’ রাজনীতির আশ্রয়!
খোলস বদলে বিএনপিতে শামসুজ্জোহা

‘ক্ষমতা যার কাছে, শামসুজ্জোহাও তার কাছে’—নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন এই প্রবাদটিই যেন ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৬ বছর ওসমান পরিবারের ছায়াতলে থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা বিতর্কিত কাউন্সিলর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহা এখন ভোল পাল্টে নিজেকে ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এই রাজনৈতিক ডিগবাজি ও অতীতের অপরাধের ফিরিস্তি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাদ সৃষ্টি হয়েছে।

ওসমান পরিবারের ছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য: আওয়ামী লীগ শাসনামলে শামসুজ্জোহা ছিলেন ওসমান পরিবারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত সহযোগী। এই ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল অপরাধ সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে টিসিবি পণ্য চুরি, সরকারি জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। নারী কাউন্সিলর সানিয়া সাউদের ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানোর পরও ওসমান পরিবারের ছত্রছায়ায় তিনি পার পেয়ে যান।

ডাকাতি ও তুলা বাণিজ্য: ২৬নং ওয়ার্ডে শামসুজ্জোহা এক বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ডাকাত স্বপন, আজিজুল ও খোকন ওরফে চোক্কাকে দিয়ে চলত তার সব কর্মকাণ্ড। এলাকায় চুরি-ডাকাতি বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে তিনি মালিকপক্ষকে ভয় দেখিয়ে এবং ডাকাতদের সহায়তায় উদ্ধার করা মালামাল অর্থের বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার ‘মধ্যস্থতা’ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকতেন। অভিযোগ আছে, যুবলীগ নেতার তদবির ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি অপরাধীদের পুলিশি ঝামেলা থেকে মুক্ত করতেন।

রাজনীতিতে ডিগবাজি ও হাইব্রিড তকমা: ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলার আসামি হয়ে তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে ফের প্রকাশ্যে এসে তিনি শুরু করেন রাজনৈতিক ডিগবাজি। প্রথমে ‘মডেল মাসুদ’ বলয়ে ভিড়লেও, এমপি আবুল কালামের প্রভাব বুঝতে পেরে সেখানে যোগদানের চেষ্টা করেন। এমপি তাকে প্রত্যাখান করলে এখন তিনি সিটি প্রশাসক সাখাওয়াতের দরবারে আনাগোনা শুরু করেছেন।

স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ধানের শীষের স্লোগান দিলেও পর্দার আড়ালে তিনি সাত্তার, হালিম, মনির ও তার নিয়ন্ত্রিত কর্মীদের মাধ্যমে ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে কাজ করিয়েছেন। মূলত দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি ও নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই তিনি ‘হাইব্রিড’ হিসেবে বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করেছেন। কেবল তিনি নন, তার ভাই জাহাঙ্গীর আলমও জাতীয় পার্টির রাজনীতি ছেড়ে হঠাৎ বিএনপি নেতা বনে গেছেন।

জনসাধারণের দাবি: শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই সুবিধাবাদী চক্রটি পুনরায় ক্ষমতার মধু লুটাতে চায় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং বিএনপির ত্যাগী কর্মীরা শামসুজ্জোহার মতো সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী ও হত্যা মামলার আসামিকে রাজনৈতিক আশ্রয় না দিয়ে দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


খোলস বদলে বিএনপিতে শামসুজ্জোহা: অতীত অপরাধ ঢাকতে ‘হাইব্রিড’ রাজনীতির আশ্রয়!

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

‘ক্ষমতা যার কাছে, শামসুজ্জোহাও তার কাছে’—নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন এই প্রবাদটিই যেন ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৬ বছর ওসমান পরিবারের ছায়াতলে থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা বিতর্কিত কাউন্সিলর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহা এখন ভোল পাল্টে নিজেকে ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এই রাজনৈতিক ডিগবাজি ও অতীতের অপরাধের ফিরিস্তি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাদ সৃষ্টি হয়েছে।

ওসমান পরিবারের ছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য: আওয়ামী লীগ শাসনামলে শামসুজ্জোহা ছিলেন ওসমান পরিবারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত সহযোগী। এই ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল অপরাধ সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে টিসিবি পণ্য চুরি, সরকারি জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। নারী কাউন্সিলর সানিয়া সাউদের ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানোর পরও ওসমান পরিবারের ছত্রছায়ায় তিনি পার পেয়ে যান।

ডাকাতি ও তুলা বাণিজ্য: ২৬নং ওয়ার্ডে শামসুজ্জোহা এক বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ডাকাত স্বপন, আজিজুল ও খোকন ওরফে চোক্কাকে দিয়ে চলত তার সব কর্মকাণ্ড। এলাকায় চুরি-ডাকাতি বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে তিনি মালিকপক্ষকে ভয় দেখিয়ে এবং ডাকাতদের সহায়তায় উদ্ধার করা মালামাল অর্থের বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার ‘মধ্যস্থতা’ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকতেন। অভিযোগ আছে, যুবলীগ নেতার তদবির ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি অপরাধীদের পুলিশি ঝামেলা থেকে মুক্ত করতেন।

রাজনীতিতে ডিগবাজি ও হাইব্রিড তকমা: ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলার আসামি হয়ে তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে ফের প্রকাশ্যে এসে তিনি শুরু করেন রাজনৈতিক ডিগবাজি। প্রথমে ‘মডেল মাসুদ’ বলয়ে ভিড়লেও, এমপি আবুল কালামের প্রভাব বুঝতে পেরে সেখানে যোগদানের চেষ্টা করেন। এমপি তাকে প্রত্যাখান করলে এখন তিনি সিটি প্রশাসক সাখাওয়াতের দরবারে আনাগোনা শুরু করেছেন।

স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ধানের শীষের স্লোগান দিলেও পর্দার আড়ালে তিনি সাত্তার, হালিম, মনির ও তার নিয়ন্ত্রিত কর্মীদের মাধ্যমে ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে কাজ করিয়েছেন। মূলত দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি ও নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই তিনি ‘হাইব্রিড’ হিসেবে বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করেছেন। কেবল তিনি নন, তার ভাই জাহাঙ্গীর আলমও জাতীয় পার্টির রাজনীতি ছেড়ে হঠাৎ বিএনপি নেতা বনে গেছেন।

জনসাধারণের দাবি: শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই সুবিধাবাদী চক্রটি পুনরায় ক্ষমতার মধু লুটাতে চায় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং বিএনপির ত্যাগী কর্মীরা শামসুজ্জোহার মতো সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী ও হত্যা মামলার আসামিকে রাজনৈতিক আশ্রয় না দিয়ে দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত