ঢাকা   সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ দেওভোগ মাদরাসা ইস্যুতে ক্লিয়ার করলেন শিক্ষার্থী



নারায়ণগঞ্জ দেওভোগ মাদরাসা ইস্যুতে ক্লিয়ার করলেন শিক্ষার্থী

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদরাসাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি। একজন বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অবস্থান ও ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি।

গত ৩০ জুন মাদরাসার নির্বাহী পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের জানা মতে, ওই বৈঠকে মুহতামিম ও মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবের মধ্যকার বি-রো-ধ নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে সভাপতি মাদরাসার প্রতিনিধি তিনজন শিক্ষককে বৈঠক থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে বৈঠকে মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবকে মাদরাসা এবং মসজিদের খতিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আমাদের জানা মতে, এই সিদ্ধান্তের পক্ষে উপস্থাপিত অ-ভিযোগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও উপস্থাপনে মাওলানা ফেরদাউসসহ কয়েকজন ভূমিকা পালন করেন।

অব্যাহতির পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে মাদরাসার অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে বলে আমরা দেখেছি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, কোনো উসকানিতে ছাত্ররা সাড়া দেয়নি। শত চেষ্টা করেও কাউকে বিশৃঙ্খলার পথে নামানো সম্ভব হয়নি।

কিন্তু হারুন সাহেবকে অব্যাহতির প্রায় পাঁচ দিন পর আমরা লক্ষ্য করি, মুহতামিম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষক একের পর এক এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে থাকেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আমাদের দৃষ্টিতে, মাদরাসার পরিচালনায় একক সিদ্ধান্তের প্রবণতা বাড়তে থাকে এবং কিছু জুনিয়র শিক্ষক নাজেমে তা'লিমাতসহ কয়েকজন সিনিয়র উস্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

পরবর্তীতে একের পর এক সিনিয়র উস্তাদকে অব্যাহতি দেওয়ার নোটিশ, যাতে মুহতামিমের স্বাক্ষর ছিল, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। এই নোটিশই আজকের ছাত্র আন্দোলনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নোটিশটি দেখার পর ছাত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষো-ভের সৃষ্টি হয়।

আমরা অব্যাহতি পাওয়া উস্তাদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তাঁদের কষ্ট, বেদনা ও চোখের অশ্রু আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। আমাদের অনুভূতি ছিল, তাঁরা মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপে ছিলেন।

এরই প্রতিবাদে আজ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মুহতামিমসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ, অব্যাহতি পাওয়া সিনিয়র উস্তাদদের পুনর্বহাল এবং মাদরাসায় ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় বহিরাগত কিছু ব্যক্তি মাদরাসায় প্রবেশের চেষ্টা করে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। তবে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ায়নি। বিভিন্ন দিক থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের চাপ থাকলেও ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিতে অটল ছিল।

ঘটনার পর সারাদেশে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। দুঃখজনকভাবে, পুরো ঘটনা না জেনেই অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা দলের সম্পৃক্ততা নেই।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাদরাসায় উপস্থিত হন মুফতি মনির কাসেমী, এলাকার জাকির খান, ফেরদাউসসহ বিএনপির মহানগরীর কয়েকজন নেতা। দীর্ঘ আলোচনার পর আমাদের জানানো হয় যে, মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হবে এবং পরিচালনা পরিষদ আগামী তিন দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

পরিশেষে, আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই—দেওভোগ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কারো উসকানিতে কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য মাঠে নামেনি। আমরা শুধুমাত্র আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান, সম্মানিত সিনিয়র উস্তাদদের মর্যাদা এবং মাদরাসার ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের মাদরাসায় ন্যায়, ইনসাফ, ঐক্য ও শান্তি ফিরিয়ে দিন। আমীন।

— মুহাম্মদ নাজমুল হুদা রনি

শিক্ষার্থী, দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ণগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


নারায়ণগঞ্জ দেওভোগ মাদরাসা ইস্যুতে ক্লিয়ার করলেন শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদরাসাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি। একজন বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অবস্থান ও ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি।


গত ৩০ জুন মাদরাসার নির্বাহী পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের জানা মতে, ওই বৈঠকে মুহতামিম ও মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবের মধ্যকার বি-রো-ধ নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে সভাপতি মাদরাসার প্রতিনিধি তিনজন শিক্ষককে বৈঠক থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে বৈঠকে মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবকে মাদরাসা এবং মসজিদের খতিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


আমাদের জানা মতে, এই সিদ্ধান্তের পক্ষে উপস্থাপিত অ-ভিযোগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও উপস্থাপনে মাওলানা ফেরদাউসসহ কয়েকজন ভূমিকা পালন করেন।

অব্যাহতির পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে মাদরাসার অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে বলে আমরা দেখেছি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, কোনো উসকানিতে ছাত্ররা সাড়া দেয়নি। শত চেষ্টা করেও কাউকে বিশৃঙ্খলার পথে নামানো সম্ভব হয়নি।


কিন্তু হারুন সাহেবকে অব্যাহতির প্রায় পাঁচ দিন পর আমরা লক্ষ্য করি, মুহতামিম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষক একের পর এক এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে থাকেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আমাদের দৃষ্টিতে, মাদরাসার পরিচালনায় একক সিদ্ধান্তের প্রবণতা বাড়তে থাকে এবং কিছু জুনিয়র শিক্ষক নাজেমে তা'লিমাতসহ কয়েকজন সিনিয়র উস্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।


পরবর্তীতে একের পর এক সিনিয়র উস্তাদকে অব্যাহতি দেওয়ার নোটিশ, যাতে মুহতামিমের স্বাক্ষর ছিল, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। এই নোটিশই আজকের ছাত্র আন্দোলনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নোটিশটি দেখার পর ছাত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষো-ভের সৃষ্টি হয়।


আমরা অব্যাহতি পাওয়া উস্তাদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তাঁদের কষ্ট, বেদনা ও চোখের অশ্রু আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। আমাদের অনুভূতি ছিল, তাঁরা মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপে ছিলেন।


এরই প্রতিবাদে আজ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মুহতামিমসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ, অব্যাহতি পাওয়া সিনিয়র উস্তাদদের পুনর্বহাল এবং মাদরাসায় ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।


এ সময় বহিরাগত কিছু ব্যক্তি মাদরাসায় প্রবেশের চেষ্টা করে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। তবে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ায়নি। বিভিন্ন দিক থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের চাপ থাকলেও ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিতে অটল ছিল।


ঘটনার পর সারাদেশে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। দুঃখজনকভাবে, পুরো ঘটনা না জেনেই অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা দলের সম্পৃক্ততা নেই।


পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাদরাসায় উপস্থিত হন মুফতি মনির কাসেমী, এলাকার জাকির খান, ফেরদাউসসহ বিএনপির মহানগরীর কয়েকজন নেতা। দীর্ঘ আলোচনার পর আমাদের জানানো হয় যে, মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হবে এবং পরিচালনা পরিষদ আগামী তিন দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।


পরিশেষে, আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই—দেওভোগ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কারো উসকানিতে কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য মাঠে নামেনি। আমরা শুধুমাত্র আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান, সম্মানিত সিনিয়র উস্তাদদের মর্যাদা এবং মাদরাসার ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি।


আল্লাহ তাআলা আমাদের মাদরাসায় ন্যায়, ইনসাফ, ঐক্য ও শান্তি ফিরিয়ে দিন। আমীন।


— মুহাম্মদ নাজমুল হুদা রনি

শিক্ষার্থী, দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ণগঞ্জ


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত