উসকানিতে নয়, প্রতিষ্ঠান রক্ষায় আন্দোলন: দেওভোগ মাদরাসা নিয়ে শিক্ষার্থীর স্পষ্ট বার্তা
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদরাসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রকৃত ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের অবস্থান তুলে ধরে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হুদা রনি। নিচে তার বিবৃতির মূল অংশগুলো তুলে ধরা হলো:
ঘটনার প্রেক্ষাপট: বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৩০ জুন মাদরাসার নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবকে মাদরাসা এবং মসজিদের খতিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মাওলানা ফেরদাউসসহ কয়েকজনের ভূমিকা ছিল বলে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতীয়মান হয়। তবে সেই সময় শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার পথে পা বাড়ায়নি।
আন্দোলনের সূত্রপাত: মুহতামিম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদরাসা পরিচালনায় একক সিদ্ধান্তের প্রবণতা এবং সিনিয়র উস্তাদদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে মুহতামিমের স্বাক্ষরে একাধিক সিনিয়র উস্তাদকে অব্যাহতির নোটিশ প্রদান করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্ত উস্তাদদের আবেগঘন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা শান্ত থাকতে পারেনি।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দাবি: শিক্ষার্থীরা মুহতামিমসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ, অব্যাহতিপ্রাপ্ত সিনিয়র উস্তাদদের পুনর্বহাল এবং মাদরাসায় ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই আন্দোলনে বহিরাগতরা উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে কোনো সংঘাতে জড়ায়নি।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, “এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা দলের সম্পৃক্ততা নেই। পুরো ঘটনা না জেনেই অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন এবং রাজনৈতিক রং চড়ানোর চেষ্টা করছেন, যা দুঃখজনক।”
বর্তমান পরিস্থিতি: পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মুফতি মনির কাসেমী, জাকির খান ও বিএনপির মহানগর নেতৃবৃন্দ মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে আলোচনা করেন। সেখানে মাওলানা হারুনুর রশীদ সাহেবকে পুনর্বহাল এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অঙ্গীকার: বিবৃতিতে মুহাম্মদ নাজমুল হুদা রনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দেওভোগ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কারো উসকানিতে বা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য মাঠে নামেনি। আমরা শুধুমাত্র আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান, সম্মানিত উস্তাদদের মর্যাদা এবং মাদরাসার ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করেছি।”
পরিশেষে, মাদরাসায় শান্তি, ইনসাফ ও ঐক্য ফিরে আসার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বিবৃতিটি শেষ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন