প্রবীণ শিক্ষককে অন্যায়ভাবে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে উত্তাল দেওভোগ জামিয়ার শিক্ষার্থীরা
নারায়ণগঞ্জের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদ্রাসাকে ঘিরে সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা। মুহতামিমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, হঠকারী সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং প্রবীণ উস্তাদদের অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মুহতামিম আবু তাহের জিহাদি দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার প্রবীণ উস্তাদদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোণঠাসা করে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে অব্যাহতির ভয় দেখিয়ে তাদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হতো বলেও একাধিক সূত্র জানায়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব ছিলেন মুফতি হারুনুর রশিদ।
গত ৩০ জুন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে মুফতি হারুনুর রশিদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকের দাবি, অভিযোগগুলো ছিল ভিত্তিহীন। এ ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসার অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।
এর প্রায় পাঁচ দিন পর মুহতামিম আবু তাহের জিহাদি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষক—মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা জুবায়ের, মাওলানা এমদাদ ও মাওলানা মাজহার—একের পর এক এমন কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মাদ্রাসার কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষক, নাজেমে তা'লিমাত এবং একাধিক সিনিয়র উস্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মুহতামিমের স্বাক্ষরযুক্ত একাধিক প্রবীণ উস্তাদের অব্যাহতির নোটিশ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় এবং মাদ্রাসার অভ্যন্তরে শুরু হয় গণআন্দোলন।
আন্দোলনের একপর্যায়ে মুহতামিম আবু তাহের জিহাদি নিজের অব্যাহতির পত্রে স্বাক্ষর করে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন। তাঁকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠান ছাড়ার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, অব্যাহতির পরও তিনি বিভিন্ন মহলের সহায়তায় মাদ্রাসায় পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের এক দফা দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তাদের বক্তব্য, অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া প্রবীণ উস্তাদদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মাদ্রাসায় স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না।
ন্যায়বিচার ও প্রিয় উস্তাদদের সম্মান রক্ষার দাবিতে দেওভোগ জামিয়ার শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নানা চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা তাদের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যায়নি। শিক্ষার্থীদের দৃঢ় বিশ্বাস—সত্য ও ন্যায়ের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। আর সেই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করেই তারা শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও অদম্য মনোবল নিয়ে তাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।
আপনার মতামত লিখুন