নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর বাবার বাড়ির সামনে সাদিয়ার লাশ, পরিবারে সন্দেহের দানা
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের খলাগাঁও গ্রামে সাদিয়া (২৫) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে বাবার বাড়ির এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাদিয়া খলাগাঁও গ্রামের শহীদ উল্লাহর মেয়ে।
ঘটনার পটভূমি
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদের পর সাদিয়া তাঁর বড় বোন সাজেদার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সাজেদার স্বামী প্রবাসে থাকায় তাঁরা দুই বোন একত্রে থাকতেন। পরিবারের দাবি, রবিবার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে সাদিয়া বাসা থেকে বের হয়ে যান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
রহস্যজনক কল ও লাশ উদ্ধার
পরিবারের অভিযোগ, রাত ১১টার দিকে সাদিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে একটি কল আসে। কলদাতা জানান, সাদিয়া কীটনাশক সেবন করে মারা গেছেন এবং তাঁর মরদেহ বাবার বাড়ির পার্শ্ববর্তী খোরশেদ ভুঁইয়ার দোকানের সামনে রাখা হয়েছে। এই তথ্য পাওয়ার পর সাদিয়ার ভাই ও চাচারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর নিথর দেহ দেখতে পান।
পুলিশের পদক্ষেপ
খবর পেয়ে কচুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল ইসলাম ও এসআই মৃদুল বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য তা চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কচুয়া থানার পুলিশ জানায়, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারের দাবি
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দিনের বেলা নিখোঁজ হওয়া, রাতের আঁধারে বাবার বাড়ির সামনে মরদেহ ফেলে রাখা এবং অজ্ঞাত কলদাতার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর পাওয়ার বিষয়টি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন