নগর ভবনের ফাইল চালাচালিতে জিম্মি বন্দরের বাসিন্দারা: ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ নগরবাসী
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) বন্দর কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রশাসনিক স্থবিরতা ও দুর্নীতির কারণে নাগরিক সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও কর্মকর্তার অভাবে প্রতিটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাইল চালাচালিতে দীর্ঘসূত্রতা
অনুসন্ধানে জানা যায়, কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ে ফাইলে স্বাক্ষর করার মতো পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে প্রতিটি ফাইল অনুমোদনের জন্য শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে নগর ভবনে পাঠাতে হয়। সেখানে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার স্বাক্ষরের পর তা পুনরায় কদমরসুল কার্যালয়ে ফেরত আসে। এভাবে একটি ফাইলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অন্তত ৪ থেকে ৫ বার নদী পারাপার হতে হয়। এই সুযোগে অসাধু চক্র ফাইল আটকে রেখে ঘুষ দাবি করে। ঘুষ দিলে দ্রুত কাজ হলেও, না দিলে একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন হতে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
নাগরিকদের অভিযোগ ও হয়রানি
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সব ধরনের কর পরিশোধ করা সত্ত্বেও তারা সেবার সুফল পাচ্ছেন না। ২৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলীনূর মিয়া জানান, হোল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন বা ওয়ারিশ সনদ নিতে গিয়ে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। একইভাবে ১৯নং ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী জানান, ৭ মাস ধরে নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করেও সফল হননি। ঘুষ না দিলে উল্টো নানা অপকৌশলে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২১নং ওয়ার্ডের নূর হোসেনের অভিযোগ, অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী দ্রুত ফাইল ছাড়ানোর নামে সরাসরি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
আঞ্চলিক কার্যালয়ের অস্তিত্ব সংকটে
বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হলেও, দায়িত্বরত কোনো কর্মকর্তাকে সেখানে পদায়ন না করায় পুরো প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এখন নগর ভবনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক জনবলের অভাবে এই কার্যালয়টি বর্তমানে নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রশাসকের নতুন সিদ্ধান্ত
জনভোগান্তি লাঘব এবং কাজের গতি ফেরাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বন্দরের কদমরসুল কার্যালয়ে সপ্তাহে একদিন অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক এই বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দূর করা না গেলে নাগরিক ভোগান্তি কোনোভাবেই কমবে না। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন