ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রদল নেতাকে চড় মারলেন ছাত্রলীগ নেত্রী



আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রদল নেতাকে চড় মারলেন ছাত্রলীগ নেত্রী
ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেত্রী তিন্নি

নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের বিতর্কিত জিএস ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নুরুন্নাহার তিন্নির বিরুদ্ধে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে আদালত চত্বরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সেখানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ভুক্তভোগী শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কোনো ধরণের নির্বাচন ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে একটি পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়া এই পকেট কমিটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তিন্নি কোর্ট প্রাঙ্গণে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার ওপর শারীরিক আক্রমণ করেন।’

খোলস পাল্টানোর অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে আইন কলেজে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন নুরুন্নাহার তিন্নি। তবে ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে তিনি নিজেকে ছাত্রদলের ‘ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। এরই পুরস্কারস্বরূপ কোনো প্রকার নির্বাচন ছাড়াই গঠিত নতুন কমিটিতে তিনি জিএস পদ বাগিয়ে নেন বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিয়ম বহির্ভূত কমিটি গঠন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র সংসদের কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে সেই নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। গত ৬ মে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৬ সদস্যের এই কমিটি প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে খন্দকার মো. সাদ্দাম হোসেনকে ভিপি, নুরুন্নাহার তিন্নিকে জিএস এবং হুসাইন মোহাম্মদ অন্তরকে এজিএস করা হয়েছে। কমিটি অনুমোদনের কাগজে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং আইন কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি খন্দকার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কলেজ প্রশাসন তাদের ক্ষমতাবলে নির্বাচন ছাড়াই ছাত্র সংসদের কমিটি গঠন করতে পারে। সেই নিয়ম মেনেই আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।’

এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপিপন্থী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রদল নেতাকে চড় মারলেন ছাত্রলীগ নেত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের বিতর্কিত জিএস ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নুরুন্নাহার তিন্নির বিরুদ্ধে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে আদালত চত্বরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সেখানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ভুক্তভোগী শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কোনো ধরণের নির্বাচন ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে একটি পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়া এই পকেট কমিটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তিন্নি কোর্ট প্রাঙ্গণে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার ওপর শারীরিক আক্রমণ করেন।’

খোলস পাল্টানোর অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে আইন কলেজে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন নুরুন্নাহার তিন্নি। তবে ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে তিনি নিজেকে ছাত্রদলের ‘ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। এরই পুরস্কারস্বরূপ কোনো প্রকার নির্বাচন ছাড়াই গঠিত নতুন কমিটিতে তিনি জিএস পদ বাগিয়ে নেন বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিয়ম বহির্ভূত কমিটি গঠন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র সংসদের কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে সেই নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। গত ৬ মে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৬ সদস্যের এই কমিটি প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে খন্দকার মো. সাদ্দাম হোসেনকে ভিপি, নুরুন্নাহার তিন্নিকে জিএস এবং হুসাইন মোহাম্মদ অন্তরকে এজিএস করা হয়েছে। কমিটি অনুমোদনের কাগজে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং আইন কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি খন্দকার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কলেজ প্রশাসন তাদের ক্ষমতাবলে নির্বাচন ছাড়াই ছাত্র সংসদের কমিটি গঠন করতে পারে। সেই নিয়ম মেনেই আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।’

এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপিপন্থী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত