‘চোরের মার বড় গলা’: ফতুল্লা বিএনপির দুই নেতাকে নিয়ে মন্টু মেম্বারের বিস্ফোরক মন্তব্য
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের তক্কার মাঠ এলাকার বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কমিটিকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার এবং শ্রমিক দল নেতা মন্টু মেম্বারের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এই কোন্দল এখন কেবল মসজিদ কমিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়িতে রূপ নিয়েছে।
দ্বন্দ্বের সূত্রপাত: জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ১ নভেম্বর ২০২৬ মেয়াদে বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর বর্তমান কমিটির সভাপতি মন্টু মেম্বারকে অবহিত না করেই ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার ১৭ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
মন্টু মেম্বারের বিস্ফোরক মন্তব্য: গত ১১ জুলাই নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্টু মেম্বার বলেন, “ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হয়ে রুহুল আমিন সিকদার কোন অদৃশ্য ক্ষমতায় কুতুবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তক্কার মাঠ এলাকার মসজিদে এসে কমিটি ঘোষণা করেন? এটা ক্ষমতার দাপট ছাড়া আর কিছুই না।”
এ সময় তিনি নাম প্রকাশ না করে ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্য করে আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মন্টু মেম্বার বলেন, “চোরের মার বড় গলা। গত ৫ আগস্টের পর ফতুল্লায় আপনারা কী কী করেছেন, তা ফতুল্লাবাসী সবাই জানে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে অন্যের ওপর দোষ চাপানো বন্ধ করুন।” নিজের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগকেও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
বিএনপি নেতার বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি: অপরদিকে, ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টা বক্তব্যে মন্টু মেম্বারের বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা (মব) তৈরির অভিযোগ তুলেছেন।
এ বিষয়ে রুহুল আমিন সিকদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জনমনে উদ্বেগ: স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের এই বিরোধ এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের এই কোন্দল ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
আপনার মতামত লিখুন