বন্দরে মাদক ব্যবসায় পুলিশের ‘মধুচন্দ্রিমা’: ৫০ স্পটে চলছে নেশার মেলা
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় কর্মরত পুলিশের একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের শেল্টার দেওয়া ও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার অর্ধশতাধিক মাদক স্পট থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তিতে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট।
অভিযুক্তদের নেপথ্যে ‘অদৃশ্য শক্তি’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক বাণিজ্য ও আটক বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই মনির, এসআই ফারুক হোসেন, এসআই ইদ্রিছ আলী ও এসআই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক মাস আগেই বদলির আদেশ হয়। কিন্তু অদৃশ্য খুঁটির জোরে তারা এখনো বন্দর থানায় বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, খোদ ওসির প্রত্যক্ষ মদদেই এই অসাধু অফিসাররা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
৫০টি স্পট থেকে ১০ লাখ টাকা মাসোহারা
অনুসন্ধানে জানা যায়, ছালেহনগর, ঝাউতলা, সোনাকান্দা, মদনগঞ্জ বেদেপট্টি ও নবীগঞ্জ ইস্পাহানিসহ অন্তত ৫০টি স্পট থেকে সোর্স ও দালালদের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা মাসোহারা আদায় করা হয়। এর বিনিময়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করে বরং আইনগত সুরক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া, লোকদেখানো অভিযানে মাদকসহ আটক করেও মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে কারবারিদের ছেড়ে দেওয়া এবং মোবাইল ফোনসহ আলামত গায়েব করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অনৈতিক সম্পর্ক ও অসামাজিক কার্যকলাপ
অভিযোগ উঠেছে, চিহ্নিত অনেক মাদক কারবারির পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে এসব পুলিশ কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের এই বেপরোয়া আচরণের ফলে এলাকায় খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পুলিশের ভূমিকা ‘দায়সারা’ হওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।
সচেতন মহলের দাবি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে ক্ষুব্ধ সচেতন মহল বলছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীতিহীন কর্মকাণ্ডে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ম্লান হচ্ছে। অবিলম্বে এসব অসাধু পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফে উদ্দিন বলেন, “কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বদলি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নিয়ম মেনেই তা কার্যকর হবে।”
আপনার মতামত লিখুন