ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

ফেনীতে ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত



ফেনীতে ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

ফেনীতে ৩ জুন বিশ্ব ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ দিবস উপলক্ষে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২১ জুন রবিবার ফেনী তেমুহনী এলাকায় বিকালে এক র‌্যালি ও আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সভাকক্ষে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর বাস্তবায়নে, মিরাকেলফিট-এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সার্বিক সহায়তায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়।

বিকাল ৫টার পর স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এই দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোর মধ্যে আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়া—কারণ ক্লাবফুট কোন অভিশাপ নয়, বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য।

বিকালে ফেনীর পা তেমুহনী এলাকায় র‌্যালিটি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেন্টারের সভাকক্ষে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ক্লাবফুট নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করে দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে রেফারালের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “ফেনীর মতো এলাকায় এখনো অনেক পরিবার ক্লাবফুটকে জন্মগত অভিশাপ বা অচিকিৎসাযোগ্য সমস্যা মনে করে। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে যদি আমরা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে সময়মতো রেফারাল নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে কোনো শিশুই আর প্রতিবন্ধকতার শিকার হবে না। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ ফেনীর শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, “ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ বা স্থায়ী অক্ষমতা নয়। জন্মের পর যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। ফেনীতে অনেক শিশু এখনো দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসে, যার ফলে জটিলতা বাড়ে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে পাঠানো, যাতে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।”

ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর, ইউনাইটেড পারপাস এবং সভার কীনোট স্পিকার হিসেবে জুম অনলাইনে যুক্ত হয়ে সুমিত বণিক বলেন, “ফেনীর তৃণমূল পর্যায়ে এখনও ক্লাবফুট নিয়ে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার বিদ্যমান। আমাদের কাজ হলো পরিবার, সমাজ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এই ভুল ধারণা ভাঙা। শিশু জন্মের পরপরই যদি সঠিক স্ক্রিনিং ও রেফারাল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায়, তাহলে প্রতিটি শিশু সময়মতো চিকিৎসা পাবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে উঠবে।”

আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. সাইফুদ্দীন জুলফিকার বলেন, “ফেনীতে আমরা দেখতে পাই, অনেক শিশু দেরিতে আসার কারণে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ ক্লাবফুট খুব সহজেই ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই জন্মের পরপরই যদি শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে রেফার করা যায়, তাহলে কোনো শিশুই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতার শিকার হবে না। অভিভাবকদের সচেতন হওয়াই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

সভা শেষে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্লাবফুট সম্পর্কে নতুন ধারণা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে ফেনীর প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের এই উদ্যোগ ফেনী অঞ্চলে ক্লাবফুট সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ফেনীতে ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

ফেনীতে ৩ জুন বিশ্ব ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ দিবস উপলক্ষে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২১ জুন রবিবার ফেনী তেমুহনী এলাকায় বিকালে এক র‌্যালি ও আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সভাকক্ষে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর বাস্তবায়নে, মিরাকেলফিট-এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সার্বিক সহায়তায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়।


বিকাল ৫টার পর স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এই দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোর মধ্যে আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়া—কারণ ক্লাবফুট কোন অভিশাপ নয়, বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য।


বিকালে ফেনীর পা তেমুহনী এলাকায় র‌্যালিটি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেন্টারের সভাকক্ষে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ক্লাবফুট নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করে দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে রেফারালের গুরুত্ব তুলে ধরেন।


ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “ফেনীর মতো এলাকায় এখনো অনেক পরিবার ক্লাবফুটকে জন্মগত অভিশাপ বা অচিকিৎসাযোগ্য সমস্যা মনে করে। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে যদি আমরা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে সময়মতো রেফারাল নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে কোনো শিশুই আর প্রতিবন্ধকতার শিকার হবে না। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ ফেনীর শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, “ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ বা স্থায়ী অক্ষমতা নয়। জন্মের পর যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। ফেনীতে অনেক শিশু এখনো দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসে, যার ফলে জটিলতা বাড়ে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে পাঠানো, যাতে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।”


ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর, ইউনাইটেড পারপাস এবং সভার কীনোট স্পিকার হিসেবে জুম অনলাইনে যুক্ত হয়ে সুমিত বণিক বলেন, “ফেনীর তৃণমূল পর্যায়ে এখনও ক্লাবফুট নিয়ে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার বিদ্যমান। আমাদের কাজ হলো পরিবার, সমাজ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এই ভুল ধারণা ভাঙা। শিশু জন্মের পরপরই যদি সঠিক স্ক্রিনিং ও রেফারাল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায়, তাহলে প্রতিটি শিশু সময়মতো চিকিৎসা পাবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে উঠবে।”


আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. সাইফুদ্দীন জুলফিকার বলেন, “ফেনীতে আমরা দেখতে পাই, অনেক শিশু দেরিতে আসার কারণে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ ক্লাবফুট খুব সহজেই ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই জন্মের পরপরই যদি শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে রেফার করা যায়, তাহলে কোনো শিশুই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতার শিকার হবে না। অভিভাবকদের সচেতন হওয়াই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”


সভা শেষে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্লাবফুট সম্পর্কে নতুন ধারণা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে ফেনীর প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের এই উদ্যোগ ফেনী অঞ্চলে ক্লাবফুট সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত